1. news@banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

গাইবান্ধায় সরকারি হাসপাতালের লোকবল দিয়ে চলছে বৈধ-অবৈধ ক্লিনিক

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২০
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে
অবৈধ নার্সিং হোম

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলাসহ জেলার শহর ও অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট কোন কুটিরে বা দোকান ঘরের মধ্যে ক্লিনিক ডায়াগানেষ্টিক গড়ে উঠেছে তা কিন্তু জেলায় নতুন নয় । যত্রতত্র গড়ে উঠা ক্লিনিক এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠলেও নেওয়া হয় না কোন ব্যবস্থা। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর । আজ এক সাহেদ কে ধরে মিডিয়া গরম করা হচ্ছে অথচ আজ দেশের আনাচে কানাচে হাজারো সাহেদরা স্বাস্থ্য সেবা করার নামে বিশাল ব্যবসাযোগ্য চালিয়ে আসছে।

সচেতন মহল মনে করেন এসব উপরোক্ত কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই চলে এমন স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে ব্যবসা। এসব ক্লিনিকের নেই যেমন চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মতো কোন সরঞ্জামাদি তেমনি নেই কোন নিজেস্ব ডাক্তার,টেকনিশিয়ান ,নার্স। এসব ক্লিনিকে রোগীদের যেসব পরীক্ষা করা হয় রংপুরে গিয়ে সেগুলোর কোন বৈধতা না থাকায় বা সঠিক না হওয়া আবারো সেসব পরীক্ষা করতে হয় রোগীদের । এতে করে দরিদ্র মানুষ গুলো পড়ে যায় বিপাকে। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে এসব রোগী বিশেষ ছাড় বা অল্প টাকায় চিকিৎসা সেবা পাওয়ার আসায় এসব ক্লিনিকে চলে আসা আর একারণে ক্লিনিকের নার্স যখন তখন ডাক্তার সাজিয়ে অপারেশন করছে এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে মা ও শিশু মৃত্যু হার। এ ঘটনা গুলোতে মা ও শিশু মৃত্যু কারণ হিসাবে হায়াৎ আর মওৎ তুলনা করে দেখানো হয় পরিবারকে আইনী জটিলতার পাশাপাশি লাশ কাটাছেড়া করার ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতারাতি টাকার মাধ্যমে আপোষ মিমাংসাও হয় সহজে।

সরেজমিন তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, পলাশবাড়ী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা বেগম তার নিজস্ব বাসায় গত ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মা ক্লিনিক এন্ড নার্সিং হোম নামে একটি রেজিষ্ট্রিশন বিহীন বে-সরকারি ক্লিনিক গড়ে তোলে।যেটি পরে আবেদন করা হয় এবং লাইসেন্স পেয়েছে বলে কিছু ফটোকপি কাগজ ক্লিনিকটিতে ঝুলানো দেখা যায়,যেখানে নেই কোন নিজস্ব ডাক্তার, প্রশিক্ষিত স্টাফ নার্স না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই এই নার্সিং হোমে ঘটছে একের পর এক মা ও শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেই চলেছে। গত ১ বছরে এখানে সন্তান জন্ম দিতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন অসংখ্যক মা ও শিশু। শুধুমাত্র ১০টি বেড, অপারেশন থিয়েটার ছাড়া স্বাস্থ্য সম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করার মত নেই প্রয়োজনীয় কোন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জমাদি । ফাতেমা বেগম সিনিয়র স্টাফ নার্স হাসপাতালের সরকারি ভাবে বরাদ্দকৃত অপারেশনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ওষুধপত্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মরত ডাক্তারদের নাম ভাঙ্গিয়ে বা তাদের দিয়েই চলে অপারেশনসহ ক্লিনিকের সার্বিক কার্যক্রম। হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা কালে তিনি হাসপাতাল ও এর আশপাশ এলাকায় একটি চিহ্নিত দালালচক্র তৈরি করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ডেলিভারী রোগীদের আসলেই ফুসলিয়ে-ফাসলিয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে তার ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয় আর দালালদের হাতে দেওয়া হয় রোগীর নিকট হতে নেওয়া অতিরিক্ত টাকার অংশ। অপারেশনের দায়িত্বে থাকেন নাস ফাতেমা নিজেই যখন কোন রোগী গুরুতর অসুস্থ্য হন তখনি কেবল হাসপাতালের টিএইচও ও অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারগণ কে আনা হয় বা তাদের নাম সম্বলিত সাইন বোর্ড বাহিরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এখানে যেন রকক্ষরাই-ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ! দায়িত্বের বাহিরে অবসর সময়ের কাজ দেখিয়ে চলছেন সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব ডাক্তারগণ।এ ক্লিনিকে বছরে গড়ে ৩ হাজার জন গর্ভবর্তী মহিলার নরমল ও প্রায় সাড়ে পাচ শতাধিক অপারেশনের মাধ্যমে ডেলিভারী করানো হয়।

মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে সেই মাসিক নিয়মিত করার এক ধরনের চিকিৎসার নামই এমআর (মিন্সট্রুয়াল রেগুলেশন)৷ আইনের ভাষায় এটাকে গর্ভপাত বলা হয় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভধারণের কারণেই মাসিক বন্ধ হয়ে যায়৷ তখন একটা নির্দিষ্ট সময় পযর্ন্ত এমআর করার সুযোগ থাকে। মূলত গর্ভপাত বন্ধ করতে একটা সময় এমআরকে বৈধতা দেওয়া হয়। এমআর করা গেলে তিন মাস পরে আর গর্ভপাত করার প্রয়োজন হবে না। তবে এমআরের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। এটি ব্যবহার হচ্ছে অনাকাঙিক্ষত সন্তানকে হত্যা করতে এমন দাবি করছে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রতিদিন কম বেশি নারী এমআর এর নামে অনাকাঙিক্ষত গর্ভপাত করানো হচ্ছে। সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায় পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের বেশ কয়েকটি অবৈধ ক্লিনিক, নাসিং হোম ও হাসপাতালের ষ্টাফ নার্সদের বাসায় এম আর এর নামে এসব অবৈধ গর্ভপাত করানো হচ্ছে। এর সাথে সরাসরি জড়িত সরকারি হাসপাতালের কয়েকজন নার্স তারা একশ্রেণির নারী দালালকে কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের অর্থে বিনিময়ে তারা এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু বিবাহিত নারীই না অবৈধ সম্পর্কে জরানো নারীদের পেটে সন্তান আসলে লোক লজ্জার ভয় কিংবা সামাজিকতার কারনে তারা বাচ্চা নষ্ট করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করলে এইসব ক্লিনিকে সরনাপন্ন হয়। আর এসব ক্লিনিকে গর্ভপাত করার পর ভ্রন গুলো রাস্তার পাশের ড্রেনে বা নিজ বাসার টয়লেটের সেফটি ট্যাংক, কিংবা পরিত্যাক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়। পৃথিবীর মুখ দেখার আগেই এই সব ভ্রন শিয়াল কুকুরের মুখের খাবার হয়ে যায়। যা সত্যি বড়ই অমানবিক! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিকিৎসকরা জানান এমআর-এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে গর্ভপাতকে এক ধরনের বৈধতা দেয়া হয়েছে৷ সামাজিক এবং ধর্মীয় কারণে হয়ত সরাসরি গর্ভপাতকে বৈধতা দেয়া যায় না, কিন্তু অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতে এর প্রয়োজন আছে৷ বাংলাদেশের আইনে শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে মায়ের জীবন বাঁচাতে গর্ভপাতের সুযোগ আছে৷ তবে এ সুযোগে ছোট ছোট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ‘গর্ভপাতের যে ব্যবসা গড়ে উঠেছে, তা ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ, সেখানে না আছে প্রশিক্ষিত ডাক্তার শুধু মাত্র আয়া বা নার্স দিয়েই গর্ভপাতের কাজ করা হচ্ছে দিনের পর দিন৷ এর ফলে কখনও কখনও নব্য গর্ভবর্তীরা মারা যান। আবার কখনো তার মা হওয়ার সক্ষমতা শেষ হয়ে যায় অথবা জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মরতে হয়।

এসব ক্লিনিকের নিজেস্ব ডাক্তার নাই,নার্স ,নাই,সরঞ্জাম সঠিক নাই,জায়গাও পরিমাপ মতো নাই,ক্লিনিক গুলোর নিজেস্ব ময়লা আর্বজনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নাই, তবু কি ভাবে এরা বৈধতা পায় এটা নিয়ে সচেতন মানুষের ঘোড় তোর চিন্তায় পড়েছে। তাদের বেপরোয়া চলাচলে ব্যাপক ভাবে ভাবিয়ে তুলেছে । অন্যদিকে এসব বিষয়ে জেলার উদ্ধোর্তন কর্মকর্তাগণকে অবগত করলে তারা ব্যবস্থা নেওয়া কথা প্রথমে বললেও দু হতে তিন দিন পর আর কারো মনে থাকে না। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর তার প্রমাণ গাইবান্ধা মর্গে লাশ কাটার জন্য হাতুর বাটাল ছোড়া,দা। বর্তমানে দেশে শিশু ও মা মৃত্যুহার কমিয়ে আনতে যেখানে সরকার বদ্ধ পরিকর সেখানে স্বাস্থ্য সেবার এই ব্যবসা বন্ধের জন্য সরকারের উচিত এসব অবৈধ ক্লিনিক ও নার্স ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি