1. news@banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৪০ পূর্বাহ্ন

ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ হাজার নারী

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে
নারী ড্রাইভার

গোপালগঞ্জ, ভোলা, লালমনিরহাট, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা– এই পাঁচ জেলার সবগুলো উপজেলার তিন হাজার দুস্থ-বিধবা-এতিম নারীদের স্বাবলম্বী করতে ড্রাইভিং (গাড়ি চালানো) প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর বাস্তবায়ন ব্যয় ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা অর্থাৎ ৫০ কোটির নিচে হওয়ায় প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রীর অনুমোদন দেয়ার আট মাস পর গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বিষয়টি অবহিত করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ। জানুয়ারিতে শুরু হওয়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সমাজসেবা অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার মাত্র তিন মাস আগে একনেক সভায় বিষয়টি অবহিত করে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ। এত দেরিতে বিষয়টি অবহিত করায় স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি নিয়ে যে লুকোচুরির খেলা, এটি কেবল একনেক সভায় দেরিতে অবহিতকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বুধবার (১১ নভেম্বর) দেখা যায়, সমাজসেবা অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন মোট ৩২টি প্রকল্পের তালিকা তাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে, সেখানেও নেই প্রকল্পটির নাম কিংবা কোনো তথ্য।

শুধু তা-ই নয়, ‘দেশের পাঁচটি জেলার দুস্থ, বিধবা ও এতিম নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন’ নামের প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না পাঁচ প্রকল্প এলাকার জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারাও। ফলে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন প্রকল্প এলাকার জনপ্রতিনিধি, উপকারভোগীরাও।

মাঠপর্যায়ের কেউ জানেন-ই না

কতজনকে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কি-না, প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা কী– এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তারা জানান, প্রকল্পের বিষয়ে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে কিছুই জানানো হয়নি তাদের। ফলে প্রকল্পের সময় শেষ হতে চললেও যাদের জন্য প্রকল্পটি, তারা এখনও বিষয়টি জানেন না।

নেত্রকোণা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নেত্রকোণায় এই প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু হয় নাই। আমার সঙ্গে তারা যোগাযোগও করে নাই।’

ভোলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কই, এমন প্রকল্পের চিঠি বা ডিডিপি– কিছু-ই তো পাইনি।’ সমাজসেবার এই কর্মকর্তার নিজেরই প্রশ্ন, ‘এর পিডি (প্রকল্প পরিচালক) কে?’

‘আমার জানা মতে, এমন কোনো প্রকল্প লালমনিরহাটে নেই। বিষয়টা আমরা জানি না’— বলেন লালমনিরহাট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোহতাছিম বিল্লাহ।

গোপালগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমীন মোল্লা বলেন, ‘আমার জানা মতে, গোপালগঞ্জে এই ধরনের কোনো প্রকল্প চলছে না। আমাদের হয়তো জানানো হয়নি, এজন্য জানি না। কোন কোন নারীদের গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে, সেগুলো জানি না।’

ময়মনসিংহ সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু আব্দুল্লাহ মো. ওয়ালী উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

তবে জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার বলেন, ‘নারীদের গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণের বিষয়ে আমরা কিছু-ই জানি না। সমাজসেবা অধিদফতর কোনো চিঠি দেয় নাই। তাই কোনো গরিব-বিধবা নারীর গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

গফরগাঁও উপজেলার টাঙ্গাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জাল হোসেন সাগর বলেন, ‘যুব উন্নয়ন অধিদফতর থেকে অসহায়দের পুনর্বাসন করেছি, সেলাই মেশিন দেয়াসহ বিভিন্ন রকমের উন্নয়ন কাজ করেছি। কিন্তু অসহায়-বিধবা নারীদের গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেই নাই। এ ধরনের প্রকল্পের বিষয়ে সমাজসেবা অধিদফতর থেকে কোনোকিছু কখনও জানানো হয়নি।’

যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে সমাজসেবা অধিদফতরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলামকে দুদিনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, উল্টো কেটে দেন। এসএমএস করে ফোন দেয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারীও ফোন রিসিভ করেননি।

প্রকল্পটি গত ২২ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অবহিত করে আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ। বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদকে গত ৮ নভেম্বর ফোন করা হয় জাগো নিউজের পক্ষ থেকে। ফোন ধরে তিনি জানান, সদ্য করোনা থেকে মুক্ত হয়ে বাসায় ফিরেছেন। কথা বলার সময় তার কাঁশি বেড়ে যাচ্ছিল। অসুস্থতা বিবেচনায় তার কাছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়নি।

প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করেছে আর্থ-সামাজিক বিভাগের স্কাইসোয়াম উইং। উইংয়ের যুগ্ম-প্রধান ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্পটি অনেক দেরিতে একনেক সভায় অবহিত করা হলেও অনুমোদন পেয়েছে অনেক আগে, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারিতে। তবে অনুমোদনের কতদিন পর একনেক-কে অবহিত করতে হয়, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সময় নাই। আমরা একনেকে তো পাঠাই, কিন্তু সবগুলো একসঙ্গে অবহিত করা হয় না। প্রত্যেক একনেক সভায় ২/৩টা করে প্রকল্প অবহিত করা হয়। তাছাড়া করোনার প্রভাবও পড়েছে এক্ষেত্রে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পের মতোই অবগতির প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোসহ সবধরনের নিয়ম অনুসরণ করা হয়। তবে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে কী হতে যাচ্ছে, তা আমি জানি না।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি