1. news@banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৬:৫০ অপরাহ্ন

পটুয়াখালী জেলায় অনেক কিছু হলেও হয়নি গুরুত্বপূর্ন অনেক বেড়িবাঁধ

পটুয়াখালী প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে
বেরি বাধঁ

১৩ বছর আগে ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে দেশের দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে ভয়াবহ প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর। সেদিন ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাসের সঙ্গে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার পানি আঘাত হেনেছিল দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায়।

মাত্র আধা ঘণ্টার তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপকূলের প্রান্তিক জনপদ। তীব্র ঝড় আর জলোচ্ছ্বাস কেড়ে নেয় উপকূলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠির বাড়ি-ঘর, গাছপালা, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ শত শত মানুষের তাজা প্রাণ। ওই দিনের ভয়াবহতা মনে পড়লে এখনও আঁতকে ওঠেন উপকূলবাসী।

১৫ নভেম্বর রাতে পটুয়াখালীর মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে চেনা জনপদ মুহূর্তে পরিণত হয় অচেনা এক ধ্বংসস্তূপে।

১৩ বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মহিপুর ইউনিয়নটি এখন মহিপুর থানা হয়েছে। এ জনপদের নেতারা এমপি হয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর। ভাঙা বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন বেশ কয়েকবার।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি, দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান কতবার পরিদর্শন করেছেন তার হিসাব দিতে পারবেন না বসবাসকারীরা। কিন্তু সেই ভাঙা বেড়িবাঁধের টেকসই উন্নয়ন হয়নি এখনও। বছরের পর বছর জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে। যা বর্ষা মৌসুমে ভেঙে পানি প্রবেশ করে বাড়ি-ঘর তলিয়ে যায়। শত শত একর ফসলি জমিও নষ্ট হয়ে গেছে।

প্রকৃত কৃষকরা চাষের জমি হারিয়ে এখন জেলে পেশায় নিয়োজিত। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে অন্যত্র চলে গেছে বেশ কিছু পরিবার।

সরেজমিনে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথাও বলতে চায় না তারা। তাদের ভাষ্য ‘সাংবাদিক আয় ছবি তোলে, ভিডিও করে। মোগো ভাগ্যের তো পরিবর্তন হয় না।’

প্রলয়ংকারী সিডরের ১৩ বছর পার হলেও সেরাতের ভয়াল দৃশ্য আজও তাড়িয়ে বেড়ায় নিজামপুরবাসীকে।

সিডরের ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও আন্ধারমানিক নদীর মোহনার তীরবর্তী এলাকায় বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় এখনও দুর্যোগ ঝুঁকিতে দিন পার করছে শত শত পরিবার। হতদরিদ্র পরিবারগুলো সিডরের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি ১৩ বছরেও।

নিজামপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ হাওলাদার সেদিনের কথা মনে করে বলেন, ‘সিডরের কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে উঠি। আমাদের দাবি ছিল এই এলাকায় একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের।’

এদিকে কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার, মহিপুর, চম্পাপুর ও লালুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১০ কিলোমিটার বাঁধ অরক্ষিত থাকায় বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস করা পরিবারগুলো রয়েছে এখনও ঝুঁকিতে।

সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০০৭ সালের সিডরে কলাপাড়া উপজেলায় ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে এক হাজার ৭৮ জন। নিখোঁজ রয়েছে সাত জেলে। উপজেলায় গবাদিপশু মারা গেছে চার হাজার ৯৪৪টি। ক্ষতি হয়েছে ৫৫৩টি নৌযানের।

বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় কলাপাড়ার ধুলাসার, লালুয়া, মহিপুর, লতাচাপলী ও চম্পাপুর ইউনিয়নে বেড়িবাঁধের বাইরে সাগর ও নদীর তীরঘেঁষে প্রায় তিন হাজার পরিবার বসবাস করছে চরম ঝুঁকি নিয়ে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, দ্রুত বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি