1. news@banglaroitizzo.com : BanglarOitizzo :
  2. banglaroitizzo.news@gmail.com : newseditor :
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

দাম কমেছে এলপি গ্যাসের

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
এলপিজি গ্যাস

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের দাম বোতল (১২ কোজি) প্রতি ১০০ টাকা কমিয়ে ৬০০ টাকা করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। তবে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চলছে বেসরকারি এলপি গ্যাসের বাজার। চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ সরবরাহ সক্ষমতা থাকায় সরকারি এলপিজির দাম কমলেও সুবিধা পাবে সীমিত সংখ্যাক গ্রাহক। বেসরকারি এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে সুবিধা পেত বিরাট জনগোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এলপিজি নয়, পুরো গ্যাস খাত নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই সংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকের।

বিপিসি চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, বিশ্ব বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপিজির দাম আমরা বোতল প্রতি একশ টাকা কমিয়েছি। এখন থেকে বাজারে ৬০০ টাকায় ১২ কেজির সরকারি এলপিজির বোতল পাওয়া যাবে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) করপোরেশন কার্যালয়ে এলপিজির দাম কমানো সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সেখানে আগে থেকেই কমিটির করা সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মত হন সবাই। দাম কমানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়নে দু-একদিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। অথচ বেসরকারি কোম্পানির এলপি গ্যাসের ১২ কেজির বোতল গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকায়।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র অনুয়ায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে দেশে এলপিজি ব্যবহৃত হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন। ৯ বছরের ব্যবধানে এ চাহিদা ৭ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। যার মধ্যে মাত্র বছরে ২০ হাজার টন উৎপাদন সক্ষম সরকারি এলপিজি কোম্পানি। ২০৪১ সালে এলপিজির চাহিদা ৮০ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহা. শের আলী বলেন, গত ১০ বছরে ব্যাপক হারে এলপিজির ব্যবহার বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি হারে বেড়েছে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে। এলপিজি ব্যবসায় ৫৬টি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। আমরা মনে করছি, যে সব কোম্পানি অনুমোদন দেয়া হয়েছে এগুলো যদি উৎপাদনে আসে ২০৪১ সাল পর্যন্ত আর কোনো সংকট হবে না।

বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট থেকে এলপিজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমদানি ক্রড অয়েল থেকে সামান্য পরিমাণে এলপিজি পাওয়া যায়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কনডেনসেট ও ক্রড অয়েল থেকে প্রাপ্ত এলপিজির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন। একই সময়ে আমদানি করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন। বাংলাদেশের দুটি কোম্পানি ত্রিপুরাতে এলপিজি রফতানির জন্য সম্প্রতি এমওইউ স্বাক্ষর করছে।

রাষ্ট্রীয় কোম্পানি দেশের মোট চাহিদার মাত্র দুই শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে। অবশিষ্ট ৯৮ শতাংশ এলপি গ্যাস দেশের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান যমুনা, বসুন্ধরা, ওরিয়ন, ওমেরা, নাভানা নিজ নামে এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্লিনহিট, টোটাল, পেট্রোম্যাক্স, লাফার্স, জি-গ্যাস, ডেলটা নামে বাজারজাত করছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, সরকার বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে অনুরোধ করেছিল, যাতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বোতলের গায়ে লিখে দেয়া হয়। তারা সহজেই এটি করতে পারে। এতে গ্রাহক এলপিজি সঠিক দামে কিনতে পারবেন। দেশের প্যাকেটজাত সব পণ্যেই সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা থাকে। কিন্তু এলপিজি সিলিন্ডারের গায়ে দাম লিখতে ব্যবসায়ীরা রাজি হচ্ছেন না। তারা বলছেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর বিষয়টি নির্ভরশীল, তাই এলপিজির মূল্য এভাবে লিখে দেয়া সম্ভব নয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, যেকোনো খাতে সরকারি কোম্পানি থাকে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। সরকারি কোম্পানি চাহিদার সিংহভাগ সরবরাহ করবে। যেটুকু পারবে না, সেটা বেসরকারি কোম্পানি বা ব্যবসায়ীরা করবে। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। দেশে এলপিজি খাত শুধু নয়, প্রকৃতপক্ষে গ্যাস খাত পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে বছরের পর পর সরকারি এলপিজি কোম্পানির সক্ষমতা, বিপণন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের একটি অংশ অনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে জনগণের। দাম বাড়লে জনগণকে সেটা দিতে হচ্ছে।

অধ্যাপক ড. এম শাসুল আলম বলেন, আবাসিকখাতে গ্যাস সংযোগ দেয়া না দেয়ার বিষয়টিও এলপিজি ব্যবসায়ীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তারা এলপিজির বাজার ধরে রাখতে মরিয়া। অথচ আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ দিলে সরকারি রাজস্ব বাড়তো। অবৈধ ব্যবহার কমতো। এখন অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

বিপিসির আধীনস্থ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান বলেন, সরকারে সিদ্ধান্ত আছে এলপিজির বাজার সম্প্রসারণের। ইস্টার্ন রিফাইনারী দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপন করা হলে তখন এলপিজি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে। একইসঙ্গে মহেশখালীতে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অদূর ভবিষতে সেটা বাস্তবায়ন হলে সরকারি এলপিজির উৎপাদন সরবরাহ অনেক বাড়বে। গুণগত মান নিয়ে এক পশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি এলপিজির গুণগত মান শতভাগ সঠিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

নিউজ ক্যাটাগরি